২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট ও কিছু অর্থনীতিবিদদের বিরূপ মন্তব্য-বজলার রহমান রাজা


গত ১৩ তারিখ বিকাল ৩ ঘটিকায় বাংলার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট উত্থাপিত হয়। যার পরিমাণ ৫,২৩,১৯০/= কোটি টাকা। যাহা বাংলাদেশের ১ম বাজেট সাড়ে সাতশ কোটি টাকার কয়েকশ গুণ। ঐ বাজেটটি বঙ্গবন্ধু সরকারের অর্থমন্ত্রী এম কামরুজ্জামান দিয়েছিলেন। আর এবারে বাজেট দিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে প্রসঙ্গত উল্লেখ করা প্রয়োজন তার শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই বাজেটের বাকী অংশ উপস্থাপন করেন।
বাজেট সম্পর্কে এখন কিছু মন্তব্য ঃ-
প্রতিবারের বাজেটেই কিছু রাজনীতিবিদ এবং সিডিপি বিরুপ মন্তব্য করে থাকেন। কিন্তু কই ভাই, আপনাদের দোয়ায় গরুতো মরে না। বাজেট বাজেটের মতই চলছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশে মাথাপিছু আয় বাড়ছে। বেকারত্বের হার কমছে। মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, গ্রাম বাংলায় পিচঢালা পথের অভাব নাই। তারপরও আপনারা তথাকথিত বুদ্ধিজীবি হিসাবে বাজেটে নির্মম সমালোচনা করেন যাহা খুবই দু:খজনক। সেই ভাইদেক বলি ভাইয়েরা একটু তাকানতো, আজ গ্রাম বাংলায় পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের মত আসমানীকে খুজে পাওয়া যায়। কবি সুকান্তর মত আর কি কেউ বলে ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। নজরুলের ভাষায় কেউকি বলেন হে দারিদ্র তুমি করেছ মহান। ভাই দু:খ হয়, আপনারা নিজেরাতো কাজ করেনই না, বর্তমান সরকারের যতসব দোষ, আর যত গুন আপনাদের। দেশবাসীকে কিছু করে দেখাননা। খালি ক্ষমতায় থাকলেই করা যায়, তার বাহিরে করা যায় না। যারা বাজেটের সমালোচনা করে, আমি দৃঢ়তার সহিত বলতে চাই, আপনারা একটি গরীব মানুষকেও এক মুষ্টি চাল ও ১টি টাকাও দেন না। আজ বাংলাদেশে পর্বত প্রমান এক অর্থনীতিবিদ ড. মোঃ ইউনুছ আপনাদের ভাষায় দেশের মানুষ ভাত পায় না, বাজেট ব্যর্থ অথচ তিনি বিল ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের একজন বড় দাতা। তার সমালোচনা আপনারা করেননা কেন ? শুধু জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনাই করেন। আর তার বাজেটের বিসাদগার করেন এটি কোন জ্ঞানীর কাজ নয়। আমি কয়েকজনের উদৃতি নিজে তুলে ধরছি, মির্জা আজিজুল ইসলাম-বেসরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধির নির্দেশনা নেই, সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ-মধ্যবিত্তর জন্য কিছুই নেই, আব্দুল মজিদ-রাজস্য আদায় হবে চ্যালেঞ্জিং, বিএনপি বলেছে-অর্থহীন বাজেট। এখন ভাই বিচারের ভার আপনাদেরকেই দিলাম, আপনাদের কথাগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে প্রবৃদ্ধি দুই ডিজিটে কেমনে পৌছে। আর এশিয়ার মধ্যে জাপান ব্যতিত বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক চাঙ্গা। তাই শেখ হাসিনার কাছে আপনাদের অনেক শেখার ও জানার আছে। অর্থনীতিবিদ হিসাবে অহংকার করেন, জ্ঞানের বরাই করেন, কিন্তু তা কাজে প্রমান করে দেখাতে হয়, ধন্যবাদ।
বজলার রহমান রাজা
নির্বাহী পরিচালক, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য ও গবেষণা কেন্দ্র
পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা।