শেষ বিকেলের বসন্ত -বজলার রহমান রাজা


শীত বিদায় নিল এলো বসন্ত তারও আজ শেষ দিন। মনমুগ্ধকর ঋতুরাজ বসন্ত এসেছিল নানাফুল পাখি আর গান নিয়ে, ঋতুরাজ আজ বিদায় নিচ্ছে। অনেক স্মৃতি মনে পড়েছে মেঘলার সারাটা দিন ছিল খুব ব্যস্ত। বসন্ত চলে যাওয়ার জন্য নয়। তার মনেহচ্ছে বসন্ত চলে গেলে আর একটা ঋতু আসবে। বর্ষা বর্ষা বর্ষা ঘেলাকে খুব ভয়া লাগে। এমনি এক ঋতুতে তার জীবনে এসেছিল শাওন বসন্তের মত এসেছিল আবার বর্ষায় চলে গেল কেন এসেছিল শাওন আবার কেন চলে গেলে তার ্কটেু বর্ণনা দেয়া দরকার। মেঘলা একজন বড়লোকের মেয়ে। অর্থবিত্ত আর বৌভবের তার কোন কমতি ছিল না । সীমাহীন সুখ স্বাচ্ছন্দের মাঝে বড় হয়েছে মেঘলা। তার বাবা রিপন হাওলাদার মেয়েকে বকের মাঝে আগলে রাখতেন। বড় আদরের মেয়ে মেঘলা। তবে যত আগলে রাখুনা কেন ? মেঘলার জীবনে একটি বড় দু:খের অতিত আছে। যেসব সময় তাকে তাড়া করে। কোন এক বর্ষায় সেই দু:খের রজনী উঁকি মারে মেঘলার জীবনে বসন্তের শেষ দিন আজ এই দিনে তার জীবনে এসেছিল বড় একটি ঝড় সেই ঝড়ে পড়ে তছনছ হয়েগেছে মেঘেলার জীবন। কেউ সহজে টের পাবেনা। ঝড়ের ঝাপটায় ঘেলার ডানা ভাঙ্গা। সে ভিষন দু:খের সাগরে ভাসমান। তার ভেলাও আর তার ভর সইছে না। মেঘলা তারপরও তার উপর ভর করে চলছে। তবে সামনে আর কোন বড় ঢেঁউ যদি এসেযায় তাহলে যেটুকু অবলম্বন আছে তাও হয়ত আর থাকবে না। তাই মেঘলা চিন্তিত। মানুষের জীবনে এত দু:খ কি সইবারই। তাহলে সুখ নামের বস্তুটা কোথায় ? মেঘলার মনে সবসময় সেই দু:খটা দানা বঁধে থাকে। মেঘলা ছোট বেলা থেকে বেশ হাসিখুশি একটা মেয়েছিল দু;খ তার জীবনে এসে বাসা বাঁধবে এমনটা তার কোনদিনই ভাবনায় ছিল না। কলেজ জীবনে তার এক বন্ধুর সঙ্গে কলেজে লেখাপড়া করার সময় মিশতে মিশতে মনের আঙ্গিনায় কখন যে ছেলেটা আসন করে নিয়েছে তা ভাবতে পারেনাই মেঘলা সে আর কেউ নয়। তাদের বাড়ীর পার্শ্বে তালুকদার বাড়ীর এক দর্জি মাস্টার শাওন। কোথায় বাড়ী ? কি তার পরিচয় ? মেঘলা তাও জানেনা। আবার বেশ সুদর্শন তাই স্বাভাবিকভাবেই মেঘলাকে বেশ ভাল লাগলো। শাওন ওসে অবস্থা দুরেনা। মেঘলা একটি মেয়ে সে শুধু মেয়ে না। মনেহয় সদ্য ফোঁটা একটি লাল গোলাপ। টগবগে চেহারা। লম্বা চুলগুলো মনেহয় আষাঢ় মাসে মেঘ। অথবা দুর থেকে কোন পাহাড়কে যেমন কালো দেখা যায় তেমনি আর দেহের গঠন তার তুলনা ভার। হাসিতে মুক্তা ঝড়ে পায়ের রং দুধে আলতা মিশানো। চলনে মনেহয় মমতাজ শাহজাহানকে হার মানাবে। তার চাহুনী অপূর্ব চক্ষুগুলো হরিণীর মতো। নম্র ভদ্র স্বভাবের মেয়েটি এমন এজনকে কেউনা কেউ তো ভালবাসবেই। তবে সবাইতো মুখ ফুঁটে তাদের মনে কথা বলতে পারেনা। ভাললাগার যন্ত্রণা অনেকে বুকে চেপে রাখে। কেউ কেউ বলার শাহস করলেও যখন মেঘলার সামনে যায় তখন বাকশক্তি রেহিত হয়। জীবনে অনেকে আসে প্রেম নিবেদন করার জন্য কিন্তু ফিরে যায় দু:খ ভাড়াক্রান্ত মন নিয়ে। মনের মাঝে অসহায় যন্ত্রণা। আবার মেঘলাও যে কোন কোন ছেলেকে পছন্দ করেনাই। তা নয় তবে মুখ ফুটে কাউকে বলেনাই। একদিন কলেজ যাওয়ার পথে শাওনের সঙ্গে মেঘলার দেখা। শাওন ভাবলো আজ একটু কথা বলবো মেয়েটার সঙ্গে। আবার ভয়ও করে কি বলতে কি বলি আর তার রিয়েকশনই বা কি হয় জীবনে কাউকে প্রেম নিবেদন করিনা আর আজ হঠাৎ করে মেয়েটাকে কি বলবো নামইবা কি ? না শুধু আজ নামটা জিজ্ঞাস করবো। নানা ভাবনার মাঝে পথ শেষ। ক্লাশরুমে প্রবেশ। মেঘলা একটু ভাবলো ছেলেটা আমার সঙ্গে যেভাবে আসলো তাতে মনেহয় সে আমাকে কিছু একটা বলবে অথবা তার আমার কাছে কিছু জানার আছে। সারাদিন ক্লাশ শেষে বাড়ী ফিরলো শাওন। রাত্রে অনেক ভাবলো আমি কে এবং কোথায় আছি? যদি মেয়েটাকে কিছু বলি সে যদি আমার কথাটা ভালভাবে না নেয় সে যদি তালুকদার সাহেবকে অভিযোগ করে তখন তো আমারও এখানে থাকা হবে না। তখন এ কুলও যাবে আর ও কুলও যাবে তার চাইতে যেটুকু ভাল লাগে সেইটুকুই মনের মাঝে পুষে রাখি আরও একটু অপেক্ষা করি যদি মেয়েটার কাছ থেকে কোন সারা পাওয়া যায় কিনা। আবার এটাও ঠিক হাত দিয়ে নিজের বিপদের পথ পরিস্কার করা উচিত হবে কি ? এ প্রশ্নটা সব সময় তাড়াকরে শাওনকে। বাসায় এসে সারারাত ভাবলো মেঘলাকে কেন এত ভাললাগে ?……. চলবে
বজলার রহমান রাজা,নির্বাহী পরিচালক,বঙ্গবন্ধু সাহিত্য কেন্দ্র।