মেশিনের দিকে ধাবিত হচ্ছে কারখানার মালিকরা চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছে শ্রমিকরা

মোঃ জামাল উদ্দিন কালাচাঁন : বাংলাদেশ এখন ভালো পোশাক শিল্প হিসেবে সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের শিল্প কারখানার শ্রমিকরা ভালো এবং মান সম্মত পোশাক তৈরি করে বিশ্বের কাছে খুবই প্রশংসিত । শুধু তাই নয় বাংলাদেশের মিল কারখানা আগের তুলনায় এখন অনেক উন্নত । আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ( আইএলও) নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রায় প্রতিটি কারখানা কমপ্লায়েন্সের আওতাভুক্ত এবং তাদের পোশাকের দামও আগের তুলনায় এখন অনেক গুন বেশি। কিন্তু যে সকল সাধারণ শ্রমিক গন দিন রাত পরিশ্রম করে বাংলাদেশের শিল্প কারখানা টিকিয়ে রেখে বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রেখেছে সেই সকল শ্রমিক ভাই বোনদের এখনও দেওয়া হচ্ছে না তাদের ন‍্যায‍্য মুজুরী। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জন্য ৮০০০ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে তা এখন পর্যন্ত অনেক কারখানায় বাস্তবায়ন হয়নি। প্রায় প্রতিটি কারখানায় প্রতি নিয়ত শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। এমন কি বর্তমানে দেখা যায় যেখানে একটি সেকশনে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করতো সেখানে বর্তমানে ৫০ জনের কাজ ৩০ জন দিয়ে করিয়ে নেয়। এভাবেই শ্রমিকদের উপর বাড়তি পেশার প্রয়োগ করা হয়। এখন শ্রমিক ছাঁটাইয়ের জন্য মালিকরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে।বিভিন্ন দেশের অত‍্যাধনিক কিছু অটো মেশিনের দিকে ধাবিত হচ্ছে মালিকরা, এমন কিছু মেশিন আছে যেগুলো ১০ জনের কাজ একজন মেশিন দিয়ে সম্পন্ন করছে কিন্তু বাকি ৯ জন শ্রমিক কাজ হারিয়ে হয়ে যাচ্ছে বেকার এভাবেই প্রায় প্রতিটি কারখানায় দিনে দিনে শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে যাচ্ছে। এই যদি শ্রমিকদের অবস্থা তাহলে কি হবে দেশের? মালিকরা যদি শ্রমিকদের বাদ দিয়ে মেশিনের উপর নির্ভরশীল হয় তা হলে আগামী ১০ বছর পর কি হবে বাংলাদেশের শ্রমিকদের সেটাই এখন ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ কে বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচতে হলে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে শিল্প কারখানার মালিকরা বিদেশি মেশিন থেকে ফিরে এসে শ্রমিকদের কে কাজে লাগাতে হবে। তা নাহলে আগামী ১০-১৫ বছর পর বাংলাদেশের পোশাক শিল্প চলে যেতে পারে বিদেশীদের হাতে। পোশাক শিল্পের কোন ক্ষতি হলে সেই ক্ষতির প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির উপর। তাই দেশের শ্রমিকদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আগে প্রতিটা কারখানায় তিন ভাগের দুই ভাগই ছিল নারী শ্রমিক কিন্তু এখন তা অর্ধেকে চলে আসছে , এর হার আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বর্তমানে বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে বেকারত্বের সমস্যা আর এভাবে যদি দিন দিন বেকারত্বের হার বাড়তে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কি ভাবে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে? তাই এখনি মালিক, শ্রমিক ও সরকার মিলে দেশের শিল্প দেশে টিকিয়ে রাখতে পারে তাহলে আগামীতে বেকারত্বের হার কমে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ পরিণত হবে বলে আশা করা যায়।