বাংলার যৌবন( আমি শেখ মুজিব বলছি ) -খাজা আব্দুর রহমান


দেখেছিলাম বাংলার যৌবন
অগ্নিগিরির অগ্নি শিখা,
সবুজ বনানী ঘেরা শান্তির নিকেতন
মর্ত্তের আনন্দ রেখা।
বহু বৎসর আমার এ বাক বন্ধ ছিল
পাষান কারার আবরণে,
ওরা ছিল নচ্ছার শয়তান
কেড়েছে মুখের গ্রাস আমাদের ক্ষণে।
ঘুমের অবসরে তারা যত কেড়েছে
অমৃত। লোভীর দল রাক্ষস,
আচমকা প্রলোভনে এদেশের
জনতারে করেছিল বস।
শাস্তির ভয়ে ছিলাম আমরা
সন্ত্রস্থ ভীতু মর্মাহত,
সেই সুযোগেই মেতেছিল তারা
আমাদের বক্ষ করিতে ক্ষত।
বুঝিয়া বুঝে নাই ওরা সেদিন
“বাকু মিয়া” আর “বুঝদিল সব”,
ছাড়িয়া সোনা দিয়ে আঁচলে গিরা
ভাবিয়া ছিলাম ওসব।
দেখেছিলাম আমি এত সোনা ফলা,
এদেশ! তবুও মেটেনা ক্ষুধার জ্বালা।
হঠাৎ আমার বক্ষে জাগিয়া উঠিল
অগ্নিগিরির শিখা বাংলার যৌবন,
নাড়া দিয়ে ওঠে আমার মতই
সাত কোটি হৃদয় দিয়ে মহা প্রভঞ্জন।
রোষে রোষে জাগে আমার এ দু’নয়ন,
দুর্বারে বাঁধি বুক কঠিন পর্বত মন।
আমাদের জমি আমাদের ফসল
ওরাই আসিয়া কি করিবে আবাদ?
হিংসায় আমার কলিজা জ্বলে
আমরা কি কোন দিন হব না আজাদ?
এ কোন যন্ত্র দানব যন্ত্রনা দেয়
আমার এ দেশেতে এসে,
দাসত্বের বন্ধনে দাস দাসী হয়েই
কি আমরা রহিব আপন দেশে?
বিমর্ষ মুনিব আমরাই ফিরে ফিরে চাই
বাংলার আর্তে, বাঙ্গালী হয়ে কাঙ্গালের মত
এদের লেজ ধরে কেন চলি পথে পথে?
এবার বুঝিবে তারা,
কাঁপিয়া তুলিব ওদের প্রাণ
ভয়ে থর থর এবার হবে
ওরা দিশেহারা।
আমার স্বাধীন সত্বা দিল হুংকার
চাই স্বাধীনতা, আর স্বাধীনতা,
জয় বাংলা, স্বৈরাচারী নিপাত যাক
বাংলা এবার পাবেই স্বাধীনতা।
উঠিল হুংকার প্রাণের গভীর হতে,
অগ্নিগিরির অগ্নি লাভা ছুটে
ঊর্ধ্ব আকাশ পথে।
কৈ রে কৈ রে স্বৈরাচারী বৈরী আত্মা
এ বাংলার?
চিত্ত দেখেছে ওরা ক্ষুদ্রের,
দেখেনিকো ক্ষুদ্রের বৃহৎ মার।
দেখেছে দাসত্ব বাঙ্গালির
দেখেনি মোদের অগ্নি যৌবন,
বেঁধেছে বক্ষে অগ্নিগিরির
উদগিরিত আস্ত ভবন।