প্রতিটি সেক্টরকেই আমরা ডিজিটিলাইজ করেছি : প্রধানমন্ত্রী


এম এস আই জুয়েল পাঠান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ছিল আমাদের। আমরা তা বাস্তবায়ন করে ফেলেছি। প্রতিটি সেক্টরকেই আমরা ডিজিটিলাইজ করেছি। পটুয়াখালীর এই দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে তা আরও সহজ ও গতিসম্পন্ন হবে। আমরা দেশের যে উন্নয়ন করেছি তা মানসম্পন্নভাবে ধরে রাখার দায়িত্ব আপনাদের।
গণভবন থেকে আজ রবিবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা এলাকায় নির্মিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে সাবমেরিন কেবল যখন প্রথম দক্ষিণ এশিয়ায় এলো তখন বিনা খরচে ওই ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশ হারিয়েছিল তখনকার বিএনপি সরকার প্রস্তাবটি নাকচ করে দেয়ার কারণে।

কক্সবাজার দিয়ে আসা বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল দিয়ে পুরো বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে আওয়ামী লীগ সরকারই দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমাদের সৌভাগ্য যে সেটি উদ্বোধন করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন দেশের সব ধরনের কার্যক্রমকে আমরা অনলাইনভিত্তিক করতে পেরেছি। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সবকিছুই এখন অনলাইনে। যোগাযোগ সহজ করতে আট হাজার ২০০টি পোস্ট অফিসকে ডিজিটালাইজ করাসহ ২৫ হাজার ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলার গোড়া আমখোলাপাড়ায় এই ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে সাউথইস্ট এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫) আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের সাবমেরিন কেবল থেকে সেকেন্ডে ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইট (জিবি) গতির ইন্টারনেট পাবে বাংলাদেশ।

এর ফলে বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলোকে আর বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কিনতে হবে না বলে সরকার আশা করছে।

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন কেবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয় ২০০৫ সালে, যার মাধ্যমে ২৫০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাচ্ছে। সি-মি-ইউ-৪ ছাড়াও বাংলাদেশ ছয়টি বিকল্প সাবমেরিন কেবলের (আইটিসি বা ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্ট্রিয়াল কেবল) সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেটের চাহিদা ৪০০ জিবিপিএসের বেশি। এই ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস এতদিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিএসসিসিএলের মাধ্যমে আসছিল। বাকি ২৮০ জিবিপিএস আইটিসির ব্যান্ডউইডথ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছিল।