দিনাজপুর ৭ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সীমাহীন প্রকাশ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ


দিনাজপুর জেলা সংবাদদাতাঃ উত্তরবঙ্গের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ও পরিচিত দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ৭ নং মোস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেনুর আলম এর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর কাছে থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেনুর আলম তার এহেন কার্যকলাপে এলাকাবাসী অতিষ্ট প্রায়। প্রকাশ, জন্ম সনদ নিতে গেলে কিংবা মৃত্যু সনদ নিতে গেলে সেখানে টাকা ছাড়া স্বাক্ষর করেন না বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, টাকা দিলেও মেলেনা তার স্বাক্ষর সময় মত। বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিতে হয় প্রয়োজনীয় এই সকল কাগজ পত্র। এদিকে অফিস সময় মত করেন না বলেও অভিযোগ আছে। অনেকেই বিভিন্ন সময় অফিসে গেলে সময়মত এই বিধিবাম চতুর চেয়ারম্যান অফিসে থাকেন না বলেও অনেকেই অভিযোগ করেন। এদিকে অনেকের কাছে বয়স্বভাতা এবং বিধবাভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে নিজ হাতে প্রায় হাজারো বয়স্ক ব্যক্তির কাছে নিয়েছে জনপ্রতি ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা। এমন লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকার কিছু বৃদ্ধা যারা নিজে হাতে এই চেয়ারম্যান সাবেনুর আলমকে টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এদিকে অনেকেই বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য বা সেবা নিতে প্রয়োজনে গেলে চেয়ারম্যানের দেখা পাওয়া যেন সোনার হরিন। অভিযোগ আছে নিজের প্রয়োজনে বা ব্যক্তিগত ব্যবসার কারনে বিভিন্ন সময় বাহিরে থাকেন এই চতুর চেয়ারম্যান সাবেনুর আলম। স্থানীয় সকল মেম্বারগন তার এহেন কার্যকলাপে সন্তুষ্ট না বলে অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি জানা যায়, তার ব্যক্তিগত ব্যবসার সিসি লোন পাশের জন্য ঢাকা আসলে ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম থমকে যায়। সকল সেবা থেকে বঞ্চিত হয় প্রতিনিয়তই এলাকাবাসী। দুর্ভোগ পোহাতে হয় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর নিতে। এদিকে আরো অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান এর অবর্তমানে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্যানেল চেয়ারম্যান থাকা আবশ্যক কিন্তু এই অর্থলোভী স্বার্থবাদী চেয়ারম্যান এখন পর্যন্ত কোন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন নাই। এ ব্যাপারে তার ঘনিষ্ট কিছু লোক জানান এই প্রতিবেদককে যে, তিনি কোন প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগ করবেন না। এতে তার ইনকাম কমে যাবে বলে তিনি অনেকের কাছে নিজেই প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, এই লোভি চেয়ারম্যানের স্বার্থে আঘাত হলে কিংবা তার মতের সাথে না মিল থাকলে অকারণে বিভিন্ন অজুহাতে অফিসে আসা বন্ধ করে দেন অফিসের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের। অন্যদিকে এই চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যাতা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। শিক্ষাগত যোগ্যতা তেমন না থাকায় এই বিধিবাম চতুর চেয়ারম্যান তার নিজ পুত্রকে দিয়ে পরিচালনা করেন অত্র ইউনিয়নের সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম যার ফলে আরো অবক্ষয় হচ্ছে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন,ব্যাহত হচ্ছে ইউনিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম। এদিকে অনেকের অভিযোগ অর্থের লোভে নিহির মানুষদের বিভিন্ন ভাবে জিম্মি করে বা বিভিন্ন কায়দা অবলম্বন করে অনেকের কাছে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা যা এখন অত্র এলাকায় সদৃশ্য বটে। অনেককেই অযথা বিভিন্ন অপরাধ দেখিয়ে আটকিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন এবং স্বার্থ হাসিলে টাকা গ্রহণ করেন। যা বিভিন্ন সময় এলাকায় টপ অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় বিচার কার্য এলাকার অন্যান্যরা অনেকেই করে থাকেন যা করার কথা চেয়ারম্যানের। কিন্তু অপারগ এই চেয়ারম্যান ব্যস্ত মানুষের কাছে কিভাবে টাকা নেওয়া যায়। তিনি নাকি বলে বেড়ান নির্বাচন করেছি টাকা খরচ করে তাই আমার টাকা তুলতে হবে।তাই আমার টাকা দরকার টাকা ছাড়া আমি কোন কাজ করবোনা। আগামীতে হতে পারি কিনা তা পরের ব্যাপার। তাই একালার গুণীজন শুধীজনেরা মনে করছেন এভাবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হলে একদিকে যেমন এই এলাকার সুনাম সুখ্যাতি নষ্ট হবে অন্য দিকে অত্র ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম ব্যাহত হবে। সেই সাথে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হবে এ এলাকার সাধারণ জনগন। এদিকে চেয়ারম্যান সাবেনুর আলমের সাথে এ সকল অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে এই চেয়ারম‍্যানের সকল অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোড় দাবী জানিয়ে এলাকাবাসী জানান, অতি দ্রুত এই বিধিবামচতুর অর্থলোভী চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর থেকে কঠোরতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।