জাতীর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করা হয়েছে ভারতের সাথে যে চুক্তিসমুহ সম্পাদিত হয়েছে বাংলাদেশের জনগনের স্বার্থ পরিপন্থী এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করুন : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী)- সিপিবি(এম)

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী)-সিপিবি(এম) সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডাঃ এম এ সামাদ আজ ৭ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেছেন,৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে।তিনটি প্রকল্প উদ্ভোধন ও একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী’র।

সমঝোতা স্মারক ও বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগনের সকল স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। আর ভারতের বেশ কিছু স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহকে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার কোন চুক্তি হয়নি শুধু নরেন্দ্র মোদী তথা ভারতকে খুশি রেখে যেনতেন ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে তাদের সমর্থন আশির্বাদ ও সহযোগিতা পাওয়ার আশায় ভারতকে একতরফা সুবিধা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এর আগেও বারবার ভারতকে একইভাবে একতরফা সুবিধা দিয়ে আসা হয়েছে।

বিধায় বাংলাদেশের শাসকগোষ্টী ভারতকে বন্ধু ভাবলেও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারত সম্পর্কে বৈরী মনোভাব সঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীসমূহ থেকে বাংলাদেশের পানি প্রাপ্তির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখা হলেও, বাংলাদেশ কর্তৃক ফেনী নদীর ১.৮২ কিউসেক পানি ভারতকে প্রদান করার চুক্তিতে রাজী হওয়ায় বাংলাদেশের মানুষ বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃক ভারতে ‘এলপিজি’ রপ্তানির বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং দেশের স্বার্থের জন্য আত্মঘাতি ও জনগণের সাথে প্রতারনা এবং বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

তিনি আরো বলেন, ভারত নাগরিকপঞ্জির নামে ভারতীয় মুসলমানদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করলেও বিবৃতিতে এ প্রসংগে কিছু বলা হয়নি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশকে কোন প্রকার সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। একতরফা ভাবে কোনো এক দেশের স্বার্থ রক্ষার এমন চুক্তি নজির বিহীন বলে দেশবাসী এমন অসম চুক্তি বাতিলের দাবীতে রাজপথে লড়াই করবে।

তিনি আরো বলেন, ভারত যে একটি আগ্রাসী ও সম্প্রসারনবাদী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট তার প্রমান বাংলাদেশের সমুদ্র উপকুলে বঙ্গোপসাগর পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতের ২০টি রাডার বসানোর যে চুক্তি সম্পাদিত করেছে যা এ অঞ্চলের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য হুমকি স্বরুপ বলে দেশবাসী মনে করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শাসক গোষ্ঠী আর ভারতের শাসকগোষ্ঠি বন্ধু হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের জনগন তাদের শত্রু ভাবতে শুরু করেছে এটা কারোরই কাম্য নয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে তিস্তা’র পানি চুক্তি, সীমান্তে মানুষ হত্যা, ভারতের নাগরিকপঞ্জি এবং রোহিংগাদের ফেরৎ পাঠানোতে ভারতের ইতিবাচক মনোভাব প্রত্যাশা করেছিল।

কিন্তু এ সফরে বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক বড় হতাশা ও বঞ্চনা নিয়ে এসেছে। দুই দেশের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যকার এই চুক্তি তিনি দেশের জনগনের স্বার্থ পরিপন্থী এই চুক্তি বতিলের দাবী জানান।