কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চায়

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বন্ধ থাকা কিন্ডারগার্টেনগুলো কঠিন সময় পার করছে। এই অবস্থায় আজ সোমবার সকালে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সহায়তা কামনা করেছেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, কিন্ডারগার্টেন তথা ব্যক্তিমালিকানাধীন স্কুল এবং কলেজগুলো সরকার বা অন্য কোন সংস্থার কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। এর সংখ্যা সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের আনুমানিক পরিসংখ্যান ৬০ হাজার। বাস্তবে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশিও হতে পারে। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি এই ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল শ্রেণির প্রায় ১ কোটি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সেই সাথে নিজ উদ্যোগে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ইকবাল বাহার বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে করোনা মহামারী চলছে তা মোকাবেলার জন্য গত ১৬ মার্চ দুপুরে অন্যান্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো আমরাও আপনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের সকল ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করি। এসব প্রতিষ্ঠান ৯৯ শতাংশ ভাড়া বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত বলে মাসিক সম্পূর্ণ আয়ের ৪০ শতাংশ ঘর ভাড়া, ৪০ শতাংশ সম্মানিত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা, বাকি ২০ শতাংশ বা তারও বেশি গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভর্তুকি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আমি আশঙ্কা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ঈদুল ফিতরের পরে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হয় তাহলে আমাদের কী অবস্থা হবে? যদি এরকম অবস্থা হয় তাহলে এপ্রিল মাসের ঘর ভাড়া, সাথে শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দের ৩ মাসের বেতন ভাতা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ অন্যান্য ব্যয়ভার এই ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকলেই দিশেহারা। তারা সবাই বর্তমানে একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করছেন। একদিকে করোনা মহামারী আতঙ্ক, অন্যদিকে জীবিকা নির্বাহ। আমাদের অনেকের শেষ আশ্রয়স্থল প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ। আপনার মহানুভবতায় পোশাক-কর্মী, কৃষককরা ব্যাংক থেকে নানাভাবে সাহায্য পাবে। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বেতন-ভাতাসহ সকল সুবিধা ভোগ করবে। কিন্তু আমরা ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকবৃন্দ এই বিশাল ব্যয়ভার কিভাবে বহন করব? যেখানে কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংক আমাদের লোন পর্যন্ত দেয় না।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সুবিবেচনা ও বিশেষ মানবিকতা কামনা করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই বিশাল ব্যয়ভার বহনের জন্য প্রতিষ্ঠানের আনুমানিক ব্যয় অনুপাতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করলে এই বিশাল শিক্ষক সমাজ আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে এবং আপনার কথা মনে রাখবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মো. সাফায়েত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী, মানবতার মা। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি মালিকানাধীন কিন্ডারগার্টেন এবং মানুষ গড়ার লক্ষ লক্ষ কারিগর আজ অসহায়। এই মুহুর্তে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার জন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। যা একমাত্র আপনিই দিতে পারেন। আমাদের একান্ত কামনা, উৎপাদনমুখী ও অন্যান্য খাতের মতো এই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবেন। আমার বিশ্বাস, আল্লাহর রহমতে আপনার নের্তৃত্বে অবশ্যই আমরা এই মহামারি থেকে রক্ষা পাবো। ইনশাআল্লাহ।