আরবান প্রাইমারী হেলথ্ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্টের কর্মীদের বর্তমান ২০১৫ সালের পে-স্কেল বহাল রাখা ও বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে ৩ দফা দাবিতে মানব বন্ধন

মো: জামাল উদ্দিন কালাচাঁদ : আরবান প্রাইমারী হেলথ্ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্টের কর্মীদের বর্তমান ২০১৫ সালের পে-স্কেল বহাল রাখা ও বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান প্রসঙ্গে ৩ দফা দাবিতে মানব বন্ধন হয়েছে ।
আমাদের দাবিসমূহ
(১) ২০১৫ সালের সরকার প্রদেয় প্লে-স্কেল বহল রাখতে হবে।
(২) আরবানের সকল স্তরের কর্মীদের বেতন স্কেল পদানুযায়ী সমান হতে হবে।
(৩) আরবানের নতুন ফেইজে সকল কর্মীদের চাকুরীতে বহাল রাখতে হবে।

 

এই প্রকল্পের কর্মীরা অনেক কষ্ট করে রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মানুষের হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। প্রকল্পটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত। আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্টের কর্মীবৃন্দ জানাচ্ছি যে ১৯৯৬ সালে শহরের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে “আরবান প্রাইমারী হেলথ্ কেয়ার প্রকল্প” নামক একটি যুগান্তকারী প্রকল্প গ্রহণ করেন। যা ২০০০ সাল থেকে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও নগর মাতৃসদন এর মাধ্যমে নগর এলাকার সকল অসহায়, হতদরিদ্র, বস্তিবাসী ও নি¤œ আয়ের মানুষদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারন আয়ের মানুষদের জন্য স্বল্প-মূল্যে গুনগত মানের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

আমরা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েদের তালিকা তৈরী করে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও নগর মাতৃসদনের মাধ্যমে সকল মায়েদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ সেবাদানকারী এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে নিরাপদ ডেলিভারী নিশ্চিত করি।
কিন্তু প্রকল্পের কর্মীদের সরকার প্রদেয় ২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী চলমান বেতন ভাতা বাতিলের চক্রান্ত চলছে। প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন করার প্রায় ১০ মাস পূর্বেই ২৩টি কর্মএলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেই দরপত্রে সকল কর্মএলাকার কর্মীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালায় বেতন কাঠামো গ্রেড অনুযায়ী উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট তাদের নিজেদের স্বার্থে প্রহসনের বাজেট তৈরীর দায় এড়াতে কর্মীদের নির্দিষ্ট গ্রেড অনুযায়ী বেতন ভাতা বাতিল করে এবং অন্যান্য খাতের বাজেট ঠিক রেখে বেসরকারী সংস্থাকে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়, যা পত্রিকায় প্রকাশিত করা হয়নি। অথচ প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট ও প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের কর্মীদের ২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল নীতিমালায়ই বেতন ভাতা গ্রেড অনুযায়ী বহাল রাখা হয়।
বেসরকারী সংস্থা বেশি মুনাফার স্বার্থে শুধুমাত্র মাঠের কর্মীদের চলমান বেতন ভাতাদি প্রায় অর্ধেকের চেয়েও বেশী কমিয়ে লুটপাটের বাজেট তৈরী করে দরপত্র জমা দেয়। যা আপনার প্রতিষ্ঠিত জনস্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানটি ধংস করার অপচেষ্টা মাত্র। এই দরপত্র বহাল থাকলে বেসরকারী সংস্থার অসুস্থ ও নোংরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বেতন ভাতার বৈষম্য তৈরী করা হবে। বেসরকারী সংস্থার রদবদল হলে প্রকল্পের সরাসরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের চাকুরী থেকে বাদ দেয়া হয়। যার ফলে পূর্বের কর্মীরা দক্ষ হলেও তারা বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এখানে আরও উল্ল্যেখ থাকে যে বিগত ২০০৫ ও ২০১০ সালের বাজেটে ৫% ইনক্রিমেন্টসহ পূর্বের বেতনভাতা বহাল রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে ২০১৫ সালের সরকার প্রদেয় পেস্কেলের সাথে ৫% ইনক্রিমেন্টসহ পেপারে টেন্ডার আহবান করা হলেও পরবর্তিতে তা ঠিক না রেখে কেনা কাটার অংশ ঠিক রেখে কর্মীদের বেতনভাতা কমিয়ে বাজেট পেশ করতে বলা হয়। এমতাবস্থায় আপনার স্মরনাপন্ন হচ্ছি।
তাই অত্র প্রকল্পের কর্মীদের সরকার প্রদেয় ২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতা বহাল রাখা, চাকুরীর নিরাপত্তা প্রদান (স্ব-স্ব পদে বহাল রাখা) এবং কর্মীদের বেতন বৈষম্য বাতিলের চক্রান্ত দূর করে পদানুযায়ী সমন্বিত বেতন ভাতা বহাল রেখে ও বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট আমাদের আবেদন।
বিনীত নিবেদক

আরবান প্রাইমারী হেলথ্ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রজেক্টের সকল কর্মীবৃন্দের
পক্ষে,

 

স্বপন কুমার রায়
ফিল্ড সুপারভাইজার (০১৬২৫৬২৬৯৩০)