আমরা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব : এরশাদ


মোঃ জামাল উদ্দিন কালাচাঁদ : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তিনি বলেছেন, আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। এখন থেকেই যাত্রা শুরু হোক। আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে চাই।

আজ শনিবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন মহাসমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন এরশাদ।

তিনি বলেন, আমরা জাতীয় পার্টি সবসময় নির্বাচন করেছি। আজও আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। অবাধ নির্বাচন চাই। নিশ্চয়তা চাই, আমরা যারা সংসদে আছি সবার সমন্বয়ে নির্বাচনকালীর সরকার গঠন করতে হবে।

এইচ এম এরশাদ বলেন, ‘জনগণ জাতীয় পার্টিকে সুযোগ দিতে চায়। সে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’
দল ও জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দলের চেয়ে ব্যক্তির যোগ্যতাকে মূল্যায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়।’ তিনি বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। আমার ওপরে বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ নেই।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেষ কথা, নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমি নতুন করে ১৮ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আমরা নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। শিক্ষা পদ্ধতি সংস্কার চাই। স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ চাই। শান্তির রাজনীতি চাই। সড়ক নিরাপত্তা চাই। ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রাদেশিক পদ্ধতি আনব।

সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেন, আমরা ক্ষমতায় যাবই যাব। এজন্য দলকে সংগঠিত করতে হবে। যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে, জাতীয় পার্টিই সেটা ধরে রাখতে পারবে।
সম্মিলিত জাতীয় জোটের এ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম, ফয়সল চিশতী, আবু হোসেন বাবলা, খেলাফত মজলিশের জোবায়ের আহমদ আনসারী, ইসলামিক ফ্রন্টের এমএ মান্নান, আবু সুফিয়ান, বিএনএর সেকান্দর আলী প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জাপার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, কাজী ফিরোজ রশিদ, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মাহফুজুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

এর আগে সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে মিছিল নিয়ে এসে সমাবেশস্থলে সমবেত হয় জাপা ও জোটের নেতাকর্মীরা। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পৌনে ১১টায় শুরু হয়।