অভ্যুদয় -খাজা আব্দুর রহমান


তখন ও ঊষা মেলেনি আঁখি,
তমা আরও কিছুক্ষণ বাকি।
মা’আমিনার উষ্ম গর্ভে কে যেন,
নড়ে, অন্ধ গৃহের মহা জ্যোতি হেন।
প্রসব বেদনায় আনন্দ উৎসবে,
ডাকেন আল্লাহ রে, সুপ্ত বেদনা সবে।
তড়িৎ পরিল খসে ধরায় যে আলো,
তারই সুখনাভুতির চঞ্চল হাওয়ায়
বিশ্বে বয়ে গেল।
জগতের যত কু-সংস্কার বেদাত বেসতি
উবে গেল সব এক নিমিষেই
বেখেয়ালি যত মতি।
ভেঙ্গে পরে কাবা গৃহে লাৎ ওজ্জা
আর যত দেবী,
মানব এসেছে বিশ্ব তরে
একক মানব সেবী।
অমরাবতি ফেরেশতারা পড়ে
দরূদ সাল্লালাহু আলাইহিস্‌সালাম,
কুল্‌ মাখলুকাতে জাগে
আল্লাহ আকবার পাক কালাম,
বেহেশতে ময়ূর পরে, (দঃ)
সাল্লালাহু আলাইহিস্‌সালাম।
আজি হতে তামাম বিশ্বে
গাহিল পাখিরা, নতুন গান,-
সাগর উত্তাল আরব জাযিরা।
তারার মালা হস্তে নিয়ে
ফেরেশতাকুল,
সোনার সোহাগে গাহিল সবে
মোহাম্মদ (দঃ) রাসূল।
দলে দলে এসে বেহেশত হতে
মা’আমিনার সূতিকা
গৃহ গেল ভরি,-
সেবিতে যত হুর পরি।
জবাব ফুটিল পশু পাখিদের
মানুষের মত কথা,
“কর” হতে খসিয়া পরিল
রোম সম্রাটের ক্রুশ যথা।
নত মুখে ঝুলিতে লাগিল
পূঁজার মূর্তি যত,
হেরিলেন জ্যোতি মুণ্ডিত দেহে
অপরূপ রূপ কত।
ভূমিষ্ঠ শিশুর কণ্ঠ হতে ফুটিল
অজানা বাণীর সুর,-
সেই সুরে কাঁপিয়া উঠিল বিশ্ব
বাসির প্রানিকুল যত অসুর।
সাগর শুখায়ে হল মরুভূমি
তাঁহারি তপস্যা লাগি
খর্জূর তরু এইতো আসায়
ছিলো বুঝি এতদিন জাগি।
লুকায়ে ছিল যে ফল্গু ধারা
মরু বালুকার নিচে,
বাহিয়া ছুটিল কল কল বেগে
মরু উদ্যান হল সতেজ সরসিজে।
মরুর বক্ষে এলায়ে কেশে
কে যেন এলো সিনানী সেজে,
রিক্ত ভরণী আরবী নবীন বেশে।
দিয়েছিল ইঙ্গিত ভাব-বাদী বিশ্বের,
“ফারানের” পর্বত চূড়া হতে তাঁহারি
আগমনের।
সেদিন হাসিল শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির সুখে
বিশ্ব ত্রাতা,
আজিকে আসিল মরু গৃহে শান্তির
স্নেহ দাতা।
বেদাত বেসতি ধরায় পরিল ন্যুয়ে,
আজকে তাঁহারি অভ্যুদয়ে।